ফোন নিয়মিত বন্ধ করলে কি কোনো উপকার হয়?

গেজেট প্রতিবেদন

স্মার্টফোন একটু ধীর হয়ে গেলেই অনেকের প্রথম কাজ সেটি বন্ধ করে আবার চালু করা। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট না করলে নাকি কর্মক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু সত্যিই কি নিয়মিত ফোন রিস্টার্ট করার কোনো উপকার আছে, নাকি এটি কেবল প্রচলিত একটি ধারণা?

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোন রিস্টার্ট করা ক্ষতিকর নয়। বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি ছোটখাটো কর্মক্ষমতার সমস্যা দূর করতে পারে। এমনকি বিরল কিছু পরিস্থিতিতে এটি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্মার্টফোন নিয়ে অনেক পুরোনো ধারণা এখনও প্রচলিত। যেমন— সারাক্ষণ চার্জে রাখলে ফোনের ক্ষতি হয় বা পানিতে ভেজা ফোন চালের মধ্যে রাখলে ঠিক হয়ে যায়। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে এসব ধারণার অনেকগুলোই এখন আর সত্য নয়।

তবে ফোন রিস্টার্ট করার বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চালু থাকা অবস্থায় কিছু অস্থায়ী ফাইল, ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস বা সফটওয়্যারের ছোটখাটো ত্রুটির কারণে ফোন কিছুটা ধীরগতির হতে পারে। রিস্টার্ট করলে এসব অস্থায়ী সমস্যা দূর হওয়ার সুযোগ থাকে এবং ফোন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।

তবে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাধ্যতামূলকভাবে ফোন রিস্টার্ট করার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন— উভয় অপারেটিং সিস্টেমই দীর্ঘ সময় সচল থাকার উপযোগী করে তৈরি। তাই শুধু নিয়ম মেনে প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে ফোন বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্ড্রয়েড ফোন তুলনামূলকভাবে নিয়মিত রিস্টার্ট করলে কিছুটা বেশি উপকৃত হতে পারে। অন্যদিকে আইফোনের ক্ষেত্রে এমন প্রয়োজন সাধারণত কম দেখা যায়। তবে কোনো ফোনেই রিস্টার্ট করা ক্ষতিকর নয়।

ফোনে হঠাৎ অ্যাপ আটকে যাওয়া, অতিরিক্ত ধীরগতি, নেটওয়ার্ক বা ব্লুটুথ সংযোগে সমস্যা কিংবা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে একবার রিস্টার্ট করে দেখা যেতে পারে। অনেক সময় এতেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নিরাপত্তার দিক থেকেও রিস্টার্ট কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ধরনের ক্ষতিকর সফ্‌টওয়্যার বা সাময়িক ম্যালওয়্যার কার্যক্রম ফোন পুনরায় চালু করার পর নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। যদিও এটি সব ধরনের সাইবার হুমকির সমাধান নয়।

সব মিলিয়ে, ফোন নিয়মিত রিস্টার্ট করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে প্রয়োজন হলে ফোন বন্ধ করে আবার চালু করা একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান হতে পারে, যা কর্মক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন